The Migrant Voice
+880 1768 495454
বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উত্থান: গুণগত উচ্চশিক্ষার সন্ধানে এক যাত্রা

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি তরুণদের আকাঙ্ক্ষার গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাজ্য এখন একটি প্রভাবশালী নাম।

মোঃ মাহফুজ আহমেদ খান, বাংলাদেশ - Friday, October 10, 2025 61


যুক্তরাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উত্থান: গুণগত উচ্চশিক্ষার সন্ধানে এক যাত্রা
যুক্তরাজ্যের-শিক্ষাক্ষেত্রে-বাংলাদেশি-শিক্ষার্থীদের-উত্থান:

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি তরুণদের আকাঙ্ক্ষার গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাজ্য এখন একটি প্রভাবশালী নাম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা দেশের শিক্ষা ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায় চিহ্নিত করছে। শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধিই নয়, শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রস্তুতির দিক থেকেও যুক্তরাজ্যের প্রতি এই ঝোঁক বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য।

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষার গুণগত মানের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। টাইমস হায়ার এডুকেশনের সর্বশেষ বিশ্ব র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টিই যুক্তরাজ্যে অবস্থিত। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর সময়সাপেক্ষতা। যেখানে অনেক দেশে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনে দুই বছর লাগে, সেখানে যুক্তরাজ্যে বেশিরভাগ মাস্টার্স প্রোগ্রাম মাত্র এক বছরেই সম্পন্ন হয়। এই সময়সংক্রান্ত দক্ষতা শিক্ষার্থীদের আর্থিক দিক থেকেও সুবিধা দেয়, কারণ কম সময়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করায় থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য জীবনযাত্রার খরচও কম হয়।

যুক্তরাজ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিশ্বের অন্যতম অগ্রণী দেশ। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিনিউএবল এনার্জি, বায়োটেকনোলজি এবং পাবলিক হেলথের মতো ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গবেষণা ফেলোশিপও প্রদান করছে।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা ব্যবস্থা ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, লিডস এবং গ্লাসগোর মতো শহরগুলোতে এখন সক্রিয় বাংলাদেশি ছাত্র সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনগুলো নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য অভিযোজন কর্মসূচি, শিক্ষামূলক সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের এক প্রতিনিধির বরাতে জানা গেছে, “আমরা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন থেকে শুরু করে একাডেমিক রাইটিং এবং ক্যারিয়ার পরামর্শ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করছি।”

যদিও যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার অনেক সুযোগ রয়েছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। আর্থিক সংস্থান, ভিসা প্রক্রিয়া এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য সামাল দেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।

এ বিষয়ে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. ফারহানা রহমান মন্তব্য করেন, “যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা করা উচিত। শুধু টিউশন ফিই নয়, থাকা-খাওয়া, বই-পত্র, স্বাস্থ্য বীমা এবং অন্যান্য খরচও বিবেচনায় আনতে হবে। অনেক শিক্ষার্থী কাজের মাধ্যমে আয়ের পরিকল্পনা করে, যা ভালো, কিন্তু কাজ ও পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।”

যুক্তরাজ্য সরকারের গ্র্যাজুয়েট রুট ভিসা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর আরো দুই বছর যুক্তরাজ্যে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, “যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে শিক্ষাখাতে সহযোগিতা বাড়ছে। আমরা দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী বিনিময় প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের দিকে কাজ করছি।”

মহামারি পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় হাইব্রিড শিক্ষা মডেল গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করেছে। এখন কিছু কোর্স আংশিকভাবে অনলাইনেও সম্পন্ন করা যায়, যা খরচ কমাতে সাহায্য করে।

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার প্রতি বাংলাদেশি তরুণদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গঠনের গল্পই নয়, এটি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈশ্বিক সংযোগেরও একটি দৃষ্টান্ত। সঠিক পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং দিকনির্দেশনা নিয়ে গেলে এই শিক্ষা যাত্রা বাংলাদেশি তরুণদের জন্য একটি পরিবর্তনমূলক অভিজ্ঞতা হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ হলো, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, ব্রিটিশ কাউন্সিলের অফিসিয়াল চ্যানেল এবং নির্ভরযোগ্য শিক্ষা পরামর্শকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। মিথ্যা আশ্বাস বা অসম্ভব প্রতিশ্রুতিতে কান না দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Download PDF


1 মন্তব্য সাইন-ইন
User Profile
Recent Comments (1)
Announcement
Announcement
Oct 23, 2025 08:49 PM

ফাওজুল কবির খান লিখেছেন, ‘উপদেষ্টা হিসেবে যোগদানের পর থেকে আমার রোজনামচা এমনই। গতকালও রাত আটটায় বাসায় ফিরেছি। নিজে পদে থেকে অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করিনি।