BMET তে অভিযোগ
- BMET তে অভিযোগ
BMET–এ অভিযোগই হতে পারে ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ
বিদেশে কাজ করার স্বপ্ন বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের জীবনে আশার আলো জ্বালায়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অনেকেই সর্বস্ব বিক্রি করে দালাল বা রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে তুলে দেন মোটা অঙ্কের টাকা। কিন্তু স্বপ্নের সেই যাত্রা অনেক সময় রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে। ভুয়া ভিসা, চুক্তি অনুযায়ী কাজ না পাওয়া কিংবা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ আজও নিত্যদিনের বাস্তবতা।
এমন পরিস্থিতিতে প্রতারণার শিকার অনেক পরিবারই নীরব থাকে—লজ্জা, ভয় কিংবা সঠিক তথ্যের অভাবে। অথচ সরকারিভাবে রয়েছে অভিযোগ জানানোর একটি নির্দিষ্ট ও কার্যকর ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো—BMET।
কেন BMET গুরুত্বপূর্ণ
BMET প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি দপ্তর, যার মূল দায়িত্ব বিদেশগামী কর্মীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রতিকার নিশ্চিত করাও এই দপ্তরের অন্যতম দায়িত্ব।
কোন ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়
BMET–এ অভিযোগ করা যায় বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রয়েছে—চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ না দেওয়া, স্বল্প মেয়াদের বা ভুয়া ভিসা প্রদান, বিদেশে গিয়ে একামা বা বৈধ কাগজ না করে দেওয়া, এমনকি বিদেশে পৌঁছে বেকার অবস্থায় ফেলে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও।
অভিযোগ করার প্রক্রিয়া
প্রতারণার শিকার ব্যক্তি নিজে অথবা তার পরিবারের সদস্য নিকটস্থ BMET অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা টাকা লেনদেনের কাগজ থাকলে তা সহায়ক হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কাগজ না থাকলেও মৌখিক অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।
BMET অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে ডেকে এনে শুনানি করে। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার মাধ্যমে টাকা ফেরত বা সমাধান নিশ্চিত করা হয়। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।
বিদেশে থাকা কর্মীদের জন্য ব্যবস্থা
বিদেশে অবস্থানরত কর্মীরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিযোগ জানাতে পারেন। দূতাবাস সেই অভিযোগ BMET–এ পাঠিয়ে দেয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করে।
ভয় নয়, সচেতনতার প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ না করাই প্রতারকদের সবচেয়ে বড় শক্তি। অভিযোগ জানালে হয়রানির আশঙ্কা আছে—এমন ধারণা থেকে অনেকেই পিছিয়ে যান। অথচ বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, যেসব ভুক্তভোগী সরকারি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছেন, তারাই তুলনামূলকভাবে ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
শেষ কথা
নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সেবার ব্যবহার অপরিহার্য। দালালের আশ্বাস নয়, সরকারি প্রক্রিয়াই হতে পারে বিদেশযাত্রার নিরাপদ পথ। আর প্রতারণার শিকার হলে নীরবতা নয়—BMET–এ অভিযোগই হতে পারে ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ।